সময় নেই? ব্যস্ত গৃহিণীদের জন্য ৫ মিনিটে মন সতেজ করার সহজ উপায়

এই যে, কেমন আছেন সবাই? ঢাকা শহরের এই গরমে, উচ্চ আর্দ্রতায় আর গাড়ির হর্নের শব্দে যখন মনটা কেমন যেন ভারি ভারি লাগে, শরীরটাও ম্যাজম্যাজ করে, তখন মনে হয় ইশ, যদি একটু নিজের জন্য সময় পেতাম! বিশেষ করে আমার মতো যারা সারাদিন ঘর আর বাইরের কাজ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তাদের জন্য নিজের দিকে তাকানোর সময় পাওয়াটা যেন এক বিলাসিতা। বাচ্চাকে সামলানো, সংসারের হাজারটা কাজ, তার উপর আবার ফ্রিল্যান্সিংয়ের ডেডলাইন – সব মিলিয়ে মনে হয় যেন একটা ঘূর্ণিপাকে পড়ে গেছি।

সময় নেই? ব্যস্ত গৃহিণীদের জন্য ৫ মিনিটে মন সতেজ করার সহজ উপায়

কেন এই ৫ মিনিট জরুরি?

আমরা প্রায়ই ভাবি, নিজের জন্য সময় নেওয়া মানে বুঝি অনেক বড় কিছু, পার্লারে যাওয়া বা লম্বা ছুটি কাটানো। কিন্তু সত্যি বলতে কি, আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য সেটা সবসময় সম্ভব হয় না। আর যখন নিজের জন্য একটু সময় নিতে যাই, তখন মনের মধ্যে একটা অপরাধবোধ কাজ করে – “এত কাজ পড়ে আছে, আমি এখন আরাম করছি?” কিন্তু বিশ্বাস করুন, এই ছোট ছোট বিরতিগুলো আসলে আমাদের মনকে সতেজ করে তোলে, যাতে আমরা বাকি কাজগুলো আরও ভালোভাবে করতে পারি। যখন মনটা শান্ত থাকে, তখন পরিবারের সবার সাথেও ভালো ব্যবহার করা যায়, মেজাজও ফুরফুরে থাকে। নিজেকে একটু সময় দেওয়াটা বিলাসিতা নয়, বরং সুস্থ থাকার জন্য এটা খুব জরুরি।

১. গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস: মনের জানালা খোলা

যখন খুব অস্থির লাগে বা মনে হয় সব কিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে, তখন আমি যা করি তা হলো, সব কাজ থেকে মাত্র এক মিনিটের জন্য বিরতি নিই। একটা শান্ত জায়গা খুঁজে নিই, সেটা রান্নাঘরের কোণাও হতে পারে। তারপর চোখ বন্ধ করে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিই আর ছাড়ি। নাক দিয়ে লম্বা শ্বাস নিয়ে পেট ফুলিয়ে, তারপর মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছেড়ে দিই। এভাবে ৫ বার করলেই দেখবেন মনটা অনেকটা হালকা লাগছে। এটা একদম বিনামূল্যে, আর লোডশেডিংয়ের সময়ও করা যায়! এইটুকু সময় নিজের জন্য বের করাটা কঠিন কিছু নয়।

২. এক টুকরো প্রকৃতির ছোঁয়া: ছোট গাছের সাথে কথা

আমাদের ছোট বারান্দায় একটা মানিপ্ল্যান্ট আছে। যখন মন খারাপ থাকে বা খুব ক্লান্তি লাগে, তখন আমি ওই গাছটার কাছে যাই। পাতাগুলো ছুঁয়ে দেখি, যেন গাছটার সাথে একটু কথা বলি। শহরের এই ইট-পাথরের জঙ্গলে এক টুকরো সবুজ মনকে দারুণ শান্তি দেয়। যদি বারান্দা না থাকে, তাহলে জানালার বাইরে আকাশটা দেখুন, বা কোনো গাছের দিকে তাকিয়ে থাকুন। প্রকৃতির এই ছোট ছোঁয়াটুকু মনকে সতেজ করে তোলে, যেন একটা নতুন শক্তি পাই।

৩. প্রিয় সুর বা সুগন্ধ: স্মৃতির পথ ধরে

কখনো কখনো মনকে চাঙ্গা করার জন্য আমার প্রিয় কোনো গান শুনি। খুব বেশি জোরে নয়, একদম হালকা ভলিউমে। অথবা বাজার থেকে কেনা সস্তা কোনো আগরবাতি জ্বালিয়ে দিই। আগরবাতির মিষ্টি গন্ধটা মনকে শান্ত করে দেয়, পুরনো দিনের সুন্দর স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। সুগন্ধের একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে মনকে এক নিমিষে অন্য জগতে নিয়ে যাওয়ার। এটা মনকে মুহূর্তেই সতেজ করে তোলে, যেন সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।

৪. এক কাপ গরম চা বা পানি: শরীরের ভেতরের শান্তি

আমার কাছে এক কাপ গরম চা বা এমনকি শুধু গরম পানিও অনেক শান্তির। যখন খুব ব্যস্ত থাকি, তখন চা বানানোর সময় না পেলে শুধু এক কাপ গরম পানি নিয়ে চুপচাপ বসে থাকি। ধীরে ধীরে চুমুক দিই। এইটুকু সময় শুধু নিজের জন্য। শরীরের ভেতরটা যেন শান্ত হয়ে আসে। এটা হজমের জন্যও ভালো, আর মনকেও একটা বিরতি দেয়। মনে হয় যেন শরীরের ভেতরের সব ক্লান্তি ধুয়ে যাচ্ছে।

শেষ কথা: নিজেকে সময় দেওয়াটা বিলাসিতা নয়

আমরা যারা সারাদিন পরিবারের জন্য খেটে মরি, তাদের জন্য নিজের যত্ন নেওয়াটা খুব জরুরি। এই ছোট ছোট ৫ মিনিটের বিরতিগুলো আমাদের মনকে সতেজ রাখে, যাতে আমরা আরও ভালোভাবে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারি। মনে রাখবেন, নিজেকে সময় দেওয়াটা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং সুস্থ ও হাসিখুশি থাকার জন্য এটা একটা বিনিয়োগ। সব কাজ নিখুঁতভাবে না হলেও চলবে, মাঝে মাঝে নিজেকে একটু ছাড় দিন। আজ এইটুকুই, আবার কথা হবে পরের বার হবে তো করাই যায়ই থাক, কেমন? কাল ওইট, এভাবেই তো জীবন চলে, তাই না? নিজের যত্ন নিন, ভালো থাকুন।