ব্যস্ত গৃহিণীদের জন্য! কফি বর্জ্য দিয়ে ঘর সতেজ রাখার সহজ উপায়
এই যে, কেমন আছেন সবাই? এই যে আমাদের এখানকার আর্দ্র আবহাওয়া, আর তার সাথে সারাদিনের ব্যস্ততা – সব মিলিয়ে ঘরের মধ্যে একটা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ লেগেই থাকে, তাই না? বিশেষ করে রান্নাঘর বা ফ্রিজ খুললে মাঝে মাঝে কেমন একটা গন্ধ আসে, যা মনটাকেই খারাপ করে দেয়। আর আমার মতো যাদের ছোট বাচ্চা আছে, তাদের তো সব সময় খেয়াল রাখতে হয়, ঘরটা যেন পরিষ্কার আর সতেজ থাকে। কিন্তু দামি এয়ার ফ্রেশনার বা কেমিক্যালযুক্ত জিনিস ব্যবহার করতে মন চায় না। তখন ভাবি, ইসস, যদি কোনো সহজ আর প্রাকৃতিক উপায় থাকত!
আমি অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম, কীভাবে এই সমস্যার একটা সমাধান করা যায়। একদিন কফি বানাতে গিয়ে দেখি, কফির গুঁড়ো ফেলে দিচ্ছি। তখনই মাথায় এলো, এই কফি বর্জ্য তো দারুণ একটা জিনিস! কফির মধ্যে এমন কিছু উপাদান আছে যা শুধু সুগন্ধই দেয় না, বরং খারাপ গন্ধ শুষে নিতেও খুব ভালো কাজ করে। এটা একদম প্রাকৃতিক, কোনো কেমিক্যাল নেই, আর সবচেয়ে বড় কথা, এটা ফেলে দেওয়া জিনিস, তাই কোনো খরচও নেই! আমার মতো সীমিত বাজেটের মানুষদের জন্য এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে বলুন?

কফি বর্জ্য ব্যবহার করে ঘরকে সতেজ রাখার কিছু সহজ উপায় আমি আপনাদের সাথে ভাগ করে নিচ্ছি:
-
ফ্রিজ ও রান্নাঘরের দুর্গন্ধ দূর করতে: ফ্রিজের ভেতর অনেক সময় মাছ, মাংস বা সবজির একটা মিশ্র গন্ধ হয়ে যায়। আমি যা করি, কফি বানানোর পর যে ভেজা গুঁড়োটা থাকে, সেটা একটা ছোট বাটিতে করে ফ্রিজের এক কোণায় রেখে দিই। দু-তিন দিন পর পর এটা বদলে দিই। দেখবেন, ফ্রিজের ভেতরের সব বাজে গন্ধ উধাও হয়ে গেছে, আর একটা হালকা কফির সুবাস আসছে। রান্নাঘরের সিঙ্কের নিচে বা ময়লার বালতির পাশেও একইভাবে একটা বাটিতে কফি বর্জ্য রেখে দিতে পারেন।
-
বাথরুম ও স্যাঁতসেঁতে জায়গায়: আমাদের এখানকার বাথরুমগুলো অনেক সময় স্যাঁতসেঁতে থাকে, আর একটা ভ্যাপসা গন্ধ হয়। আমি একটা ছোট কাপড়ে কফি বর্জ্য ভরে একটা পুঁটুলির মতো করে বাথরুমের এক কোণায় ঝুলিয়ে রাখি। এটা শুধু দুর্গন্ধই দূর করে না, একটা সতেজ অনুভূতিও দেয়। মাঝে মাঝে যখন লোডশেডিং হয়, তখন এই প্রাকৃতিক সুগন্ধটা বেশ আরাম দেয়।
-
জুতার দুর্গন্ধ দূর করতে: সারাদিন বাইরে ঘোরাঘুরির পর জুতা থেকে একটা বাজে গন্ধ আসা খুবই স্বাভাবিক। বিশেষ করে এই গরমে। রাতে ঘুমানোর আগে আমি কিছু শুকনো কফি বর্জ্য একটা পাতলা কাপড়ে মুড়ে জুতার ভেতরে রেখে দিই। সকালে উঠে দেখবেন, জুতার গন্ধ অনেকটাই কমে গেছে। এটা আমার স্বামীর জুতার ক্ষেত্রেও খুব কাজে দেয়!
-
গাছের সার হিসেবে (ঐচ্ছিক): যদি আপনার ঘরে ছোট ছোট গাছ থাকে, তাহলে কফি বর্জ্য তাদের জন্যও খুব উপকারী। কফি বর্জ্য গাছের জন্য প্রাকৃতিক সার হিসেবে কাজ করে। এতে নাইট্রোজেন থাকে, যা গাছের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তবে খুব বেশি দেবেন না, অল্প পরিমাণে দিলেই হবে।
কিছু জরুরি কথা: * কফি বর্জ্য ব্যবহারের আগে চেষ্টা করবেন যতটা সম্ভব শুকিয়ে নিতে। ভেজা থাকলে ছত্রাক জন্মাতে পারে। * দু-তিন দিন পর পর কফি বর্জ্য বদলে দেবেন, কারণ এর কার্যকারিতা কমে যায়। * যদি কফির গন্ধ আপনার পছন্দ না হয়, তাহলে খুব অল্প পরিমাণে ব্যবহার করুন বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক উপায় খুঁজতে পারেন।
দেখলেন তো, ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়েও কত সুন্দরভাবে ঘরের পরিবেশ সতেজ রাখা যায়! আমাদের মতো ব্যস্ত জীবনে সব সময় সবকিছু নিখুঁতভাবে করা সম্ভব হয় না। কিন্তু এই ছোট ছোট টিপসগুলো আমাদের জীবনকে একটু সহজ করে তোলে। আজ এইটুকুই থাক। নিজের যত্ন নিন, আর আপনার ঘরকেও ভালোবাসুন!


