ডিমের খোসা দিয়ে ঘরোয়া সার তৈরি করুন
আজকাল ডিমের দাম বাড়ছে, তাই না? কিন্তু ডিম খাওয়ার পরে খোসাগুলো ফেলে না দিয়ে কাজে লাগানোর অনেক উপায় আছে। আমি নীলা, মিরপুরের এই গরমে হাঁসফাঁস করতে করতে ভাবলাম, ডিমের খোসা দিয়ে তো দারুণ সার তৈরি করা যায়! চলুন, আজ সেটাই শিখে নেওয়া যাক।
ডিমের খোসার উপকারিতা ডিমের খোসায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট থাকে, যা গাছের জন্য খুবই জরুরি। এটা মাটিকে আলগা করে, অ্যাসিডের মাত্রা কমায় এবং গাছের শিকড়কে শক্তিশালী করে। শুধু তাই নয়, ডিমের খোসা পোকামাকড়ের হাত থেকেও গাছকে বাঁচাতে পারে।
কীভাবে সার তৈরি করবেন ১. প্রথমে ডিমের খোসাগুলো ভালো করে ধুয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন, এর মধ্যে যেন ডিমের কোনো অংশ লেগে না থাকে। ২. এরপর খোসাগুলো রোদে শুকিয়ে নিন। তাড়াতাড়ি করতে চাইলে অল্প আঁচে চুলায় বা মাইক্রোওয়েভেও শুকাতে পারেন। ৩. শুকনো খোসাগুলো গুঁড়ো করে নিন। ব্লেন্ডার বা হামানদিস্তা ব্যবহার করতে পারেন। মিহি গুঁড়ো হলে তা মাটিতে মেশাতে সুবিধা হবে। ৪. এই গুঁড়ো সরাসরি গাছের গোড়ায় ব্যবহার করতে পারেন। অথবা, আপনার বাগানের মাটির সঙ্গে মিশিয়েও ব্যবহার করতে পারেন।
ডিমের খোসা সার ব্যবহারের নিয়ম * টবের গাছের জন্য: প্রতি টবে এক চামচ ডিমের খোসার গুঁড়ো মেশান। * বাগানের গাছের জন্য: গাছের চারপাশে মাটি খুঁড়ে ডিমের খোসার গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন, তারপর মাটি দিয়ে ঢেকে দিন। * চারাগাছের জন্য: ডিমের খোসার গুঁড়ো চারা লাগানোর সময় মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিন।
অন্যান্য ব্যবহার ডিমের খোসা শুধু সার হিসেবেই নয়, আরও অনেক কাজে লাগে। যেমন:
- পোকা তাড়াতে: ডিমের খোসার গুঁড়ো গাছের চারপাশে ছড়িয়ে দিলে শামুক বা অন্যান্য ক্ষতিকর পোকা গাছের কাছে ঘেঁষতে পারে না।
- বীজ শুরু করতে: ডিমের খোসার মধ্যে মাটি ভরে ছোট চারা তৈরি করতে পারেন। পরে চারা বড় হলে খোসা ভেঙে মাটিতে পুঁতে দিন।
- কফি তেতো কমাতে: কফি বানানোর সময় সামান্য ডিমের খোসার গুঁড়ো মেশালে কফির তেতো ভাব কমে যায়।
আজ এ পর্যন্তই। ডিমের খোসা দিয়ে সার তৈরি করাটা কিন্তু দারুণ একটা উপায়, তাই না? একদিকে যেমন পরিবেশ ভালো থাকে, তেমনই অন্যদিকে আপনার বাগানও ভরে উঠবে সবুজে। আর হ্যাঁ, সব কিছু পারফেক্ট হতে হবে এমন নয়। একটু ভুলচুক হলে চিন্তা নেই, পরের বার নিশ্চয়ই আরও ভালো হবে।


