ব্যস্ত নারীদের: উচ্চ আর্দ্রতায় মেকআপ গুছিয়ে রাখুন
এই যে, আবার সেই আঠালো গরম! বাইরে বেরোলেই মনে হয় যেন ত্বক শ্বাস নিতে পারছে না, আর মেকআপ তো গলে যাওয়ার উপক্রম। আমাদের মতো যারা সারাদিন হাজারটা কাজ সামলে নিজেদের জন্য একটু সময় বের করি, তাদের জন্য এই উচ্চ আর্দ্রতায় মেকআপ গুছিয়ে রাখাটা যেন এক বিরাট চ্যালেঞ্জ, তাই না? বিশেষ করে যখন দেখি পছন্দের লিপস্টিকটা কেমন যেন নরম হয়ে গেছে, বা ফেস পাউডারটা জমাট বেঁধে যাচ্ছে, তখন মনটা খারাপ হয়ে যায়।
আমাদের এই শহরে, যেখানে আর্দ্রতা প্রায় সারা বছরই বেশি থাকে, সেখানে মেকআপের জিনিসপত্র ভালো রাখাটা সত্যিই কঠিন। শুধু মেকআপ নষ্ট হওয়া নয়, অপরিষ্কার বা ভুলভাবে রাখা প্রসাধনী থেকে ত্বকে ব্রণ বা অন্যান্য সমস্যাও হতে পারে। আমার নিজেরও এই সমস্যাগুলো হয়েছে, বিশেষ করে এই গরমে মুখের লোমকূপগুলো যেন আরও বেশি করে বন্ধ হয়ে যায়। আর বাজেট তো একটা বড় ব্যাপার, তাই যা আছে, সেটাকে যত্ন করে ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
তাহলে চলুন, আমি কীভাবে এই সমস্যাগুলো সামলাই, তার কিছু সহজ উপায় আপনাদের সাথে শেয়ার করি। এগুলো খুব বেশি খরচসাপেক্ষ নয়, আর আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও সহজেই মেনে চলা যায়।
১. ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায় সংরক্ষণ করুন
মেকআপ রাখার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো একটি ঠান্ডা ও শুকনো জায়গা খুঁজে বের করা। বাথরুমের ভেতরের আর্দ্রতা মেকআপের জন্য একেবারেই ভালো নয়। আমি আমার মেকআপগুলো শোবার ঘরের একটি ড্রয়ারে রাখি, যেখানে সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে না। যদি আপনার ফ্রিজে জায়গা থাকে, তবে কিছু কিছু জিনিস, যেমন – লিকুইড ফাউন্ডেশন, আইলাইনার বা লিপস্টিক ছোট একটি এয়ারটাইট বক্সে করে রাখতে পারেন। তবে ফ্রিজে রাখার আগে অবশ্যই দেখে নেবেন যে পণ্যটি ফ্রিজে রাখার উপযোগী কিনা। সব মেকআপ ফ্রিজে রাখা ঠিক নয়।
২. এয়ারটাইট কন্টেইনার ব্যবহার করুন
আর্দ্রতা থেকে মেকআপকে বাঁচাতে এয়ারটাইট কন্টেইনার খুব কাজে দেয়। আমি ছোট ছোট প্লাস্টিকের বক্স বা জিপলক ব্যাগ ব্যবহার করি। এতে শুধু আর্দ্রতা নয়, ধুলো থেকেও মেকআপ সুরক্ষিত থাকে। বিশেষ করে পাউডার জাতীয় পণ্যগুলো, যেমন – ফেস পাউডার, ব্লাশ বা আইশ্যাডো, এগুলো আর্দ্রতার কারণে জমাট বেঁধে যেতে পারে। তাই এগুলোকে ভালোভাবে বন্ধ করে রাখা জরুরি।
৩. মেকআপ ব্রাশ ও স্পঞ্জ পরিষ্কার রাখুন
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা শুধু মেকআপ সংরক্ষণের জন্যই নয়, ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্যও খুব জরুরি। আর্দ্র আবহাওয়ায় ব্রাশ ও স্পঞ্জে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত জন্মায়, যা ত্বকে ব্রণ বা ইনফেকশনের কারণ হতে পারে। আমি সপ্তাহে অন্তত একবার হালকা শ্যাম্পু বা বেবি শ্যাম্পু দিয়ে আমার ব্রাশগুলো ধুয়ে ফেলি এবং ভালোভাবে শুকিয়ে নিই। শুকানোর সময় এমনভাবে রাখি যেন বাতাস চলাচল করতে পারে।
৪. মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য ফেলে দিন
অনেক সময় আমরা মায়া করে মেয়াদ উত্তীর্ণ মেকআপ রেখে দিই। কিন্তু এটি ত্বকের জন্য খুবই ক্ষতিকর। মেয়াদ উত্তীর্ণ মেকআপ শুধু কার্যকারিতাই হারায় না, এতে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াও জন্মায়। তাই নিয়মিত আপনার মেকআপ বক্স চেক করুন এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্যগুলো ফেলে দিন। এতে আপনার ত্বকও ভালো থাকবে আর নতুন কিছু কেনার সুযোগও তৈরি হবে (যদি বাজেট থাকে আর কি!)।
৫. ছোট আকারের পণ্য ব্যবহার করুন
যদি আপনার মেকআপ খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে বড় আকারের পণ্য না কিনে ছোট আকারের পণ্য ব্যবহার করতে পারেন। এতে পণ্য নষ্ট হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাবে। এটি আমার মতো সীমিত বাজেটের মানুষের জন্য খুব ভালো একটি উপায়।
আমাদের এই ব্যস্ত জীবনে, যেখানে বিদ্যুৎ চলে যাওয়া, যানজট আর হাজারো পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যে নিজেদের জন্য একটু সময় বের করা কঠিন, সেখানে মেকআপ গুছিয়ে রাখাটা হয়তো খুব বড় কোনো বিষয় নয়। কিন্তু এই ছোট ছোট যত্নগুলো আমাদের মনকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। সবকিছু একদম নিখুঁতভাবে করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। আজ যদি একটু কম গুছিয়েও রাখা হয়, তাতেও ক্ষতি নেই। কাল আবার চেষ্টা করা যাবে। নিজের যত্ন নেওয়াটাও তো এক ধরনের ভালোবাসা, তাই না?


