ব্যস্ত গৃহিণীরা: উচ্চ আর্দ্রতায় কম খরচে食器棚 পরিপাটি ও সুরক্ষিত রাখার সহজ কৌশল
আজকাল সকাল থেকে কেমন একটা ভ্যাপসা গরম, তাই না? বাইরে বেরোলে মনে হয় যেন শরীরটা আরও ভারী হয়ে যাচ্ছে। এই গরমে শুধু আমাদের শরীরই নয়, ঘরের জিনিসপত্রও কেমন যেন নেতিয়ে পড়ে। বিশেষ করে রান্নাঘরের তাকগুলো, যেখানে আমাদের প্রতিদিনের বাসনপত্র থাকে, সেগুলো পরিপাটি রাখাটা যেন এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।
আমাদের এই শহরে আর্দ্রতা সারা বছরই বেশি থাকে। আর বর্ষাকালে তো কথাই নেই! এই অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে রান্নাঘরের তাকগুলোতে কেমন একটা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ হয়, বাসনপত্রে ফাঙ্গাস বা ছাতা পড়ার ভয় থাকে। এমনকি ছোট ছোট পোকা-মাকড়ও বাসা বাঁধতে পারে। এতে শুধু বাসনপত্র নোংরা হয় না, আমাদের পরিবারের স্বাস্থ্যের জন্যও এটা ভালো নয়। বিশেষ করে ছোট বাচ্চা থাকলে তো আরও সাবধানে থাকতে হয়।
কিন্তু তাই বলে কি আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকব? একদম না! আমি নিজেও একজন ব্যস্ত মা, তাই জানি যে দামি জিনিসপত্র কিনে সব সমস্যার সমাধান করা সব সময় সম্ভব হয় না। তবে কিছু সহজ আর কম খরচের উপায় আছে, যা দিয়ে আমরা এই সমস্যাগুলো অনেকটাই সামলাতে পারি।
প্রথমত, তাকগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা খুব জরুরি। সপ্তাহে অন্তত একবার গরম পানি আর সামান্য ডিটারজেন্ট দিয়ে মুছে নিন। তারপর শুকনো কাপড় দিয়ে ভালো করে মুছে বাতাস চলাচল করতে দিন। দ্বিতীয়ত, চালের বস্তা বা পুরনো খবরের কাগজ ব্যবহার করতে পারেন। চালের বস্তা বা খবরের কাগজ আর্দ্রতা শুষে নিতে খুব ভালো কাজ করে। তাকের নিচে বা বাসনপত্রের ফাঁকে ফাঁকে রেখে দিলে স্যাঁতসেঁতে ভাবটা কমে। তবে খবরের কাগজ নিয়মিত বদলাতে হবে। তৃতীয়ত, শুকনো নিম পাতা বা লবঙ্গ ব্যবহার করুন। এগুলো প্রাকৃতিক পোকা তাড়ানোর কাজ করে এবং একটা সতেজ গন্ধও দেয়। ছোট ছোট কাপড়ের পুঁটলিতে নিম পাতা বা লবঙ্গ ভরে তাকের কোণায় কোণায় রেখে দিতে পারেন। এটা বাজারের সস্তা জিনিস, কিন্তু খুব কার্যকর।
আমি যখন প্রথম মা হলাম, তখন মনে হতো নিজের জন্য এক মিনিট সময় বের করাও যেন অসম্ভব। রান্নাঘরের এই ছোট ছোট কাজগুলোও তখন পাহাড়ের মতো মনে হতো। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝেছি, ছোট ছোট অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনে। আমি প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে একবার করে তাকগুলো হালকা হাতে মুছে রাখি। এতে জমে থাকা ধুলো বা ময়লা পরের দিনের জন্য আর জমে থাকে না। আর সপ্তাহে একদিন, সাধারণত শুক্রবার, যখন আমার স্বামী একটু সাহায্য করতে পারেন, তখন পুরো তাকগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করি।
আরেকটা জিনিস, আমি বাসনপত্র ধোয়ার পর ভালো করে শুকিয়ে তারপর তাকে রাখি। তাড়াহুড়ো করে ভেজা বাসন রাখলে আর্দ্রতা আরও বাড়ে। আর মাঝে মাঝে
তাকের দরজাগুলো খুলে রাখি, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে। এতে স্যাঁতসেঁতে গন্ধটা চলে যায়।
রান্নাঘরের কাজগুলো হয়তো কখনো শেষ হওয়ার নয়। বিশেষ করে আমাদের মতো ব্যস্ত জীবনে, যেখানে দিনের বেশিরভাগ সময়টাই কেটে যায় হাজারটা ছোট ছোট কাজ সামলাতে। কিন্তু এই ছোট ছোট কৌশলগুলো আমাদের জীবনকে একটু সহজ করে তোলে। সব দিন হয়তো সব কিছু নিখুঁতভাবে করা সম্ভব হবে না, তাতে কী? আজ যতটুকু পারলাম, ততটুকুই যথেষ্ট। নিজের যত্ন নেওয়া আর পরিবারের স্বাস্থ্য ভালো রাখা, এই দুটোই তো সবচেয়ে জরুরি, তাই না?


