অল্প আয়ের মানুষের জন্য! কম খরচে ঘরের বিদ্যুৎ বিল কমানোর ৩টি সহজ উপায়

আজকাল দুপুরের দিকে যখন লোডশেডিং শুরু হয়, তখন গরমে ঘরের ভেতর টেকা দায় হয়ে পড়ে। তার ওপর মাস শেষে যখন বিদ্যুতের বিলটা হাতে আসে, তখন বুকের ভেতরটা যেন ছড়াত করে ওঠে। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত বা সীমিত আয়ের সংসারে প্রতিটা টাকা হিসাব করে চলতে হয়। সংসারের খরচ সামলে, বাচ্চাদের পড়াশোনা আর বাজারের ফর্দ মেলাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল সত্যিই একটা বড় বোঝা।

দোকানে গেলেই হয়তো অনেকে দামি দামি এনার্জি সেভিং অ্যাপ্লায়েন্স কেনার পরামর্শ দেবেন। কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে হুট করে সব দামি জিনিস কেনা সম্ভব নয়। তাহলে উপায় কী?

আসলে আমাদের দৈনন্দিন কিছু ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তন করেই কিন্তু বিদ্যুৎ বিল অনেকখানি কমিয়ে আনা সম্ভব। আজ আমি আপনাদের সাথে এমন ৩টি সহজ এবং বাস্তবসম্মত উপায় শেয়ার করব, যা কোনো বাড়তি খরচ ছাড়াই আপনার ঘরের বিদ্যুৎ বিল কমাতে সাহায্য করবে।

১. দিনের আলো ব্যবহার করুন এবং অপ্রয়োজনীয় প্লাগ খুলে রাখুন

আমাদের অনেকেরই একটা অভ্যাস আছে, ঘরের জানালাগুলো ভারী পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখি আর দিনের বেলাতেও লাইট জ্বালিয়ে রাখি। দুপুরের দিকে যখন বাইরে কড়া রোদ থাকে, তখন ঘরের পর্দাগুলো একটু সরিয়ে দিন। প্রাকৃতিক আলোতেই ঘরের কাজ সারুন। এতে শুধু বিদ্যুৎই বাঁচবে না, ঘরের ভ্যাপসা ভাবটাও দূর হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো 'ফ্যান্টম লোড'। আমরা অনেকেই মোবাইল চার্জার, টিভি বা ওভেনের সুইচ বোর্ড থেকে প্লাগ না খুলে শুধু রিমোট বা ডিভাইসের সুইচ বন্ধ করে রাখি। আপনি কি জানেন? প্লাগ পয়েন্টে গোঁজা থাকলে সুইচ বন্ধ থাকলেও সামান্য পরিমাণে বিদ্যুৎ অপচয় হতে থাকে। তাই কাজ শেষ হওয়া মাত্রই চার্জার বা টিভির মেইন প্লাগটি বোর্ড থেকে খুলে রাখার অভ্যাস করুন।

অল্প আয়ের মানুষের জন্য! কম খরচে ঘরের বিদ্যুৎ বিল কমানোর ৩টি সহজ উপায়

২. ফ্যান ও লাইট নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন

শুনতে খুব সাধারণ মনে হলেও এটি অত্যন্ত কার্যকরী একটি টিপস। আমাদের ঘরের সিলিং ফ্যান বা টিউবলাইটের ওপর যখন ধুলোবালির আস্তরণ পড়ে, তখন সেগুলোর কার্যক্ষমতা কমে যায়। ধুলো জমে ভারী হয়ে যাওয়া ফ্যান ঘুরতে বেশি শক্তি প্রয়োগ করতে হয়, যার ফলে বিদ্যুৎ বেশি খরচ হয়। আবার নোংরা লাইট থেকে পর্যাপ্ত আলো পাওয়া যায় না বলে আমরা বাধ্য হয়ে আরেকটি লাইট জ্বালাই।

মাসে অন্তত একবার একটি শুকনো সুতি কাপড় দিয়ে ফ্যানের ব্লেড এবং লাইটগুলো পরিষ্কার করে নিন। দেখবেন, ফ্যান আগের চেয়ে অনেক হালকা বাতাসে ঘুরছে এবং ঘরও অনেক বেশি আলোকিত মনে হচ্ছে।

৩. ইস্ত্রি ও ফ্রিজ ব্যবহারের সময় একটু সচেতন হোন

সংসারের সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ টানে যে জিনিসগুলো, তার মধ্যে ইস্ত্রি এবং ফ্রিজ অন্যতম। প্রতিদিন একটা বা দুটো করে কাপড় ইস্ত্রি না করে, সপ্তাহের সব কাপড় একবারে ইস্ত্রি করার চেষ্টা করুন। ইস্ত্রি গরম হতে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ লাগে, তাই বারবার গরম করার চেয়ে একবারে কাজ শেষ করা অনেক সাশ্রয়ী।

আর ফ্রিজের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখুন যেন ফ্রিজের দরজা বারবার খোলা-বন্ধ করা না হয়। ফ্রিজের দরজা বেশিক্ষণ খোলা রাখলে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বের হয়ে যায় এবং কম্প্রেসরকে আবার নতুন করে ঘর ঠান্ডা করতে দ্বিগুণ কাজ করতে হয়। ফ্রিজের পেছনে দেয়াল থেকে অন্তত ৬ ইঞ্চি জায়গা ফাঁকা রাখুন, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে। এতে ফ্রিজের ওপর চাপ কম পড়ে এবং বিদ্যুৎ বিলও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

জীবনকে সহজ করার ছোট ছোট প্রচেষ্টা

বিদ্যুৎ বিল কমানোর এই উপায়গুলো হয়তো এক রাতে আপনার জীবন বদলে দেবে না, কিন্তু মাস শেষে যখন বিলের কাগজটা আসবে, তখন আপনি নিজেই তফাতটা বুঝতে পারবেন। আমাদের মতো সাধারণ সংসারে এই ছোট ছোট সাশ্রয়গুলোই দিনশেষে অনেক বড় স্বস্তি এনে দেয়। নিজের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে, আজ থেকেই এই ছোট অভ্যাসগুলো গড়ে তোলার চেষ্টা করুন। আপনি আপনার পরিবারের জন্য যা করছেন, সেটাই অনেক প্রশংসনীয়।