ব্যস্ত গৃহিণীদের জন্য: কাজ করতে করতেই নিজের যত্ন নেওয়ার সহজ কৌশল, সময় বাঁচান!
এই যে সারাদিনের ধুলোবালি আর আর্দ্রতার মধ্যে কাজ করতে করতে শরীরটা কেমন যেন ম্যাজম্যাজ করে, তাই না? বিশেষ করে যখন ছোট একটা বাচ্চা সামলাতে হয়, তখন নিজের দিকে তাকানোর সময় কই? আমারও মনে হয়, নিজের জন্য একটু সময় বের করা যেন বিলাসিতা। কিন্তু বিশ্বাস করুন, ছোট ছোট কিছু অভ্যাস আমাদের জীবনটা অনেক সহজ করে দিতে পারে। ঢাকার এই ব্যস্ত জীবনে, যেখানে যানজট আর কোলাহল নিত্যসঙ্গী, সেখানে নিজের জন্য একটু সময় বের করাটা সত্যিই কঠিন। কিন্তু আমি নীলা, একজন সাধারণ গৃহিণী হিসেবে, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু সহজ উপায় খুঁজে বের করেছি, যা হয়তো আপনারও কাজে লাগবে।
১. ছোট ছোট বিরতিতে ত্বকের যত্ন
দিনের শেষে যখন বাইরে থেকে ফিরি, মনে হয় যেন ত্বকের উপর একটা পুরু ধুলোর আস্তরণ জমেছে। এই আর্দ্র আবহাওয়ায় ব্রণ আর লোমকূপের সমস্যা তো লেগেই থাকে। আর কড়া রোদে ত্বক পুড়ে কালচে হয়ে যায়। আমি যেটা করি, রান্নাঘরের কাজ বা অন্য কোনো বিরতির ফাঁকে মুখটা ভালো করে ধুয়ে নিই। বাজারের সাধারণ বেসন বা চালের গুঁড়োর সাথে একটু গোলাপজল মিশিয়ে হালকা স্ক্রাব করি। এতে ত্বক পরিষ্কারও হয়, আবার খুব বেশি সময়ও লাগে না। বাইরে বের হওয়ার আগে অল্প সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিই, যদিও মনে হয় সব সময় ভুলে যাই। এটা খুব বেশি দামি কিছু নয়, কিন্তু ত্বককে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
২. মানসিক শান্তি ও স্ট্রেস কমানোর উপায়
এই শহরের যানজট আর কোলাহল মাঝে মাঝে এতটাই ক্লান্ত করে তোলে যে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। আর আত্মীয়-স্বজনের সাথে মানিয়ে চলাটাও তো একটা বড় কাজ। আমি যখন দেখি মনটা খুব অস্থির লাগছে, তখন পাঁচ মিনিটের জন্য সব কাজ ফেলে দিই। হয়তো বারান্দায় গিয়ে একটু খোলা বাতাস খাই, বা প্রিয় কোনো গান শুনি। ছোটবেলায় মা বলতেন, 'মন শান্ত থাকলে সব কাজ সহজ হয়'। কথাটা সত্যি। আর রাতে যখন বিদ্যুৎ চলে যায়, তখন মোবাইলের আলোয় বাচ্চাদের সাথে গল্প করি। এটা একরকম মানসিক শান্তির উপায়, যা আমাকে দিনের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়।
৩. পুষ্টিকর খাবার, সহজ প্রস্তুতি
আমাদের এখানে মশলাদার খাবার বেশি চলে, কিন্তু মাঝে মাঝে পেটে কেমন যেন অস্বস্তি হয়। আর বাচ্চাদের জন্য তো স্বাস্থ্যকর খাবার চাই। আমি চেষ্টা করি হালকা তেল দিয়ে ডাল বা ভর্তা বানাতে। যেমন, ডাল সিদ্ধ করে তাতে অল্প পেঁয়াজ, রসুন আর কাঁচালঙ্কা দিয়ে একটা ফোড়ন দিই। এটা যেমন সুস্বাদু, তেমনই হজমেও সহজ। আর বাজারে যখন যাই, তখন টাটকা শাকসবজি কিনি। এগুলো দিয়ে ঝটপট কিছু বানিয়ে ফেলা যায়, আর পরিবারের সবাইও খুশি থাকে। এতে বাজেটও ঠিক থাকে, আবার স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।
৪. নিজের জন্য একটু সময়
অনেক সময় মনে হয়, নিজের জন্য কিছু করা মানে বুঝি পরিবারের প্রতি অবিচার। কিন্তু আমি এখন বুঝি, আমি ভালো থাকলে তবেই তো পরিবারকে ভালো রাখতে পারব। রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ে, তখন আমি হয়তো দশ মিনিটের জন্য একটা বই পড়ি, বা শুধু চুপচাপ বসে থাকি। এইটুকু সময় আমার মনকে আবার চাঙ্গা করে তোলে। কখনো কখনো, অল্প গরম পানিতে একটু লবণ মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখি। সারাদিনের ক্লান্তি যেন অনেকটাই কমে যায়। এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো আমাকে নতুন করে শক্তি যোগায়।

দেখুন, আমাদের জীবনটা তো আর সিনেমার মতো নিখুঁত নয়। প্রতিদিন সব কাজ ঠিকঠাক হবে, এমনটা আশা করাও ভুল। মাঝে মাঝে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়, আর সেটাই স্বাভাবিক। আমি এখন শিখেছি, নিজের উপর খুব বেশি চাপ না দিতে। যতটুকু পারি, ততটুকুই করি। আর যখন মনে হয়, 'আজ আর পারছি না', তখন নিজেকে বলি, 'আজ এইটুকুই যথেষ্ট, কাল আবার চেষ্টা করব'। এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই আমাদের জীবনকে সুন্দর করে তোলে।


