ব্যস্ত মানুষের জন্য: ইস্ত্রি ছাড়াই পোশাক মসৃণ রাখার সহজ কৌশল

সকাল থেকে শুরু হয় আমার দৌড়ঝাঁপ। এক হাতে বাচ্চার টিফিন, অন্য হাতে অফিসের কাজ। এর মধ্যে আবার যদি দেখি পছন্দের পোশাকটা কুঁচকে আছে, তখন মেজাজটা কেমন যেন হয়ে যায়! ইস্ত্রি করার সময় কই বলুন তো? এই গরম আর যানজটের শহরে এমনিতেই সব কিছুতে দেরি হয়, তার উপর লোডশেডিং তো আছেই। কিন্তু তাই বলে কি আমরা অগোছালো হয়ে থাকব? একদম না! আজ আমি আপনাদের সাথে আমার কিছু ছোট্ট কৌশল শেয়ার করব, যা ইস্ত্রি ছাড়াই পোশাককে ঝটপট মসৃণ রাখতে সাহায্য করবে।

ইস্ত্রি ছাড়াই পোশাক মসৃণ রাখার সহজ কৌশল

১. সঠিক উপায়ে শুকানো পোশাক ধোয়ার পর যখন শুকাই, তখনই অর্ধেক কাজ সেরে ফেলা যায়। আমি কাপড়গুলো ভালো করে ঝেড়ে, ভাঁজগুলো টেনে সোজা করে হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে দিই। বিশেষ করে শার্ট বা কামিজের ক্ষেত্রে এটা খুব কাজে দেয়। এতে কাপড়ে অযথা ভাঁজ পড়ে না এবং শুকানোর পর অনেকটাই মসৃণ থাকে।

২. বাথরুমের ভাপ এটা আমার খুব প্রিয় একটা কৌশল। যখন গোসল করতে যাই, তখন কুঁচকে যাওয়া পোশাকটা হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে বাথরুমের ভেতরে রেখে দিই। গরম পানির ভাপে পোশাকের ভাঁজগুলো অনেকটাই আলগা হয়ে যায়। গোসল শেষে পোশাকটা বাইরে এনে একটু ঝেড়ে নিলেই দেখবেন, অনেকটা ইস্ত্রি করার মতোই লাগছে। তবে খেয়াল রাখবেন, পোশাক যেন ভিজে না যায়।

৩. স্প্রে বোতলের জাদু একটা স্প্রে বোতলে সামান্য পানি নিয়ে কুঁচকে যাওয়া জায়গায় হালকা করে স্প্রে করুন। তারপর হাত দিয়ে আলতো করে টেনে টেনে ভাঁজগুলো সোজা করে দিন। এটা খুব দ্রুত কাজ করে, বিশেষ করে ছোটখাটো ভাঁজ দূর করতে। আমি মাঝে মাঝে এতে সামান্য ফ্যাব্রিক সফটনারও মিশিয়ে নিই, তাহলে পোশাক থেকে সুন্দর গন্ধও আসে।

ব্যস্ত মানুষের জন্য: ইস্ত্রি ছাড়াই পোশাক মসৃণ রাখার সহজ কৌশল

৪. ম্যাট্রেস বা ভারী বইয়ের ব্যবহার যদি হাতে একদমই সময় না থাকে, তাহলে কুঁচকে যাওয়া পোশাকটা একটা সমতল জায়গায় রাখুন। তার উপর একটা ভেজা তোয়ালে বিছিয়ে দিন (খুব বেশি ভেজা নয়, হালকা ভেজা)। তারপর এর উপর কিছু ভারী বই বা ম্যাট্রেসের নিচে রেখে দিন কয়েক মিনিটের জন্য। পোশাকের ভাঁজগুলো অনেকটাই কমে যাবে। এটা বিশেষ করে সুতির পোশাকের জন্য ভালো কাজ করে।

৫. ভেজা তোয়ালে কৌশল এটাও বেশ কার্যকর। একটা হালকা ভেজা তোয়ালে নিন (যেন পানি না ঝরে)। কুঁচকে যাওয়া পোশাকটা একটা সমতল জায়গায় রেখে তার উপর ভেজা তোয়ালেটা বিছিয়ে দিন। এবার হাত দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে পোশাকের উপর দিয়ে তোয়ালেটা টেনে নিন। তোয়ালের আর্দ্রতা এবং চাপ পোশাকের ভাঁজ দূর করতে সাহায্য করবে।

নীলার টিপস: আরও কিছু ছোট ছোট অভ্যাস

এই কৌশলগুলো ছাড়াও কিছু ছোট ছোট অভ্যাস আমাদের জীবনকে আরও সহজ করে তুলতে পারে। যেমন, সবসময় কুঁচকে যাওয়া প্রতিরোধী কাপড় বেছে নেওয়া। ধোয়ার পর কাপড় শুকানোর সাথে সাথেই ভাঁজ করে রাখা বা হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখা। আলমারিতে কাপড় ঠাসাঠাসি করে না রেখে একটু ফাঁকা ফাঁকা করে রাখা। এতে কাপড়ে অযথা ভাঁজ পড়ে না এবং বাতাস চলাচলও ভালো হয়।

দেখলেন তো, ইস্ত্রি না করেও পোশাককে পরিপাটি রাখাটা খুব কঠিন কিছু নয়। আমাদের মতো ব্যস্ত মায়েদের জন্য বা যারা সারাদিন বাইরে কাজ করেন, তাদের জন্য এই ছোট ছোট টিপসগুলো অনেক কাজে আসে। সব সময় সবকিছু নিখুঁত হবে এমনটা ভাবার দরকার নেই। আজকের দিনে এইটুকুই যথেষ্ট। নিজের জন্য একটু সময় বের করে নিজেকে ভালো রাখাটাই আসল।