ব্যস্ত গৃহিণীদের জন্য: বিনামূল্যে অনলাইনে নতুন দক্ষতা শেখার সহজ উপায়
এই যে আপা, কেমন আছেন? এই গরমে আর যানজটের শহরে দিনগুলো যেন দৌড়াচ্ছে, তাই না? সকালে উঠে বাচ্চার স্কুলের টিফিন, স্বামীর অফিসের খাবার, তারপর ঘরের কাজ... নিজের জন্য একটু সময় বের করা যেন এক অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু জানেন, এই ব্যস্ততার মাঝেও মনটা মাঝে মাঝে ছটফট করে কিছু নতুন শেখার জন্য। মনে হয়, ইশ, যদি নিজের জন্য কিছু করতে পারতাম, যদি নতুন কোনো দক্ষতা অর্জন করতে পারতাম! কিন্তু কোথায় পাবো সময়, আর কোথায় বা পাবো টাকা?
আজ আমি আপনাদের সাথে এমন কিছু সহজ উপায় নিয়ে কথা বলবো, যা দিয়ে আমরা, মানে আমাদের মতো ব্যস্ত গৃহিণীরা, বিনামূল্যে অনলাইনে নতুন কিছু শিখতে পারি। এর জন্য খুব বেশি সময় বা টাকার দরকার নেই, শুধু একটু ইচ্ছাশক্তি আর হাতের স্মার্টফোনটাই যথেষ্ট।
কেন অনলাইনে নতুন কিছু শিখবেন?
আমার মতো অনেকেই হয়তো ভাবেন, নিজের জন্য কিছু করাটা বুঝি বিলাসিতা। কিন্তু বিশ্বাস করুন, এটা মোটেও বিলাসিতা নয়, বরং নিজের মনকে সতেজ রাখার একটা দারুণ উপায়। এই যে সারাদিন একই কাজ করতে করতে একঘেয়েমি আসে, তখন নতুন কিছু শিখলে মনটা চাঙ্গা হয়ে ওঠে। হয়তো নতুন কোনো রেসিপি শিখলেন, বা ছবি এডিট করার টুকিটাকি জানলেন, কিংবা হাতের কাজ শিখলেন – ছোট ছোট এই অর্জনগুলো আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। আর সবচেয়ে বড় কথা, এর জন্য আপনাকে বাড়ির বাইরে যেতে হচ্ছে না, যানজটে আটকা পড়তে হচ্ছে না। নিজের সুবিধামতো সময়ে, নিজের ঘরে বসেই শিখতে পারছেন।
বিনামূল্যে শেখার সুযোগ কোথায়?
এখন ইন্টারনেটে বিনামূল্যে শেখার অনেক সুযোগ আছে। হয়তো ভাবছেন, ভালো কিছু কি আর বিনামূল্যে পাওয়া যায়? হ্যাঁ, যায় আপা, যায়! যেমন, ইউটিউবে হাজার হাজার টিউটোরিয়াল ভিডিও আছে। রান্না থেকে শুরু করে সেলাই, মেকআপ, এমনকি ছোটখাটো ডিজিটাল কাজ শেখারও অনেক চ্যানেল আছে। আমি নিজে অনেক সময় রান্নাঘরের কাজ করতে করতে বা দুপুরে যখন বাচ্চা ঘুমায়, তখন ইউটিউবে নতুন কিছু দেখি।
এছাড়াও, কিছু ওয়েবসাইট আছে যেখানে বিনামূল্যে অনলাইন কোর্স করা যায়। যেমন, কিছু আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম তাদের কিছু কোর্স বিনামূল্যে অফার করে। আবার, আমাদের দেশের কিছু প্রতিষ্ঠানও মাঝে মাঝে বিনামূল্যে কর্মশালার আয়োজন করে। শুধু দরকার একটু খুঁজে বের করা। আপনার স্মার্টফোনটা তো সবসময় হাতেই থাকে, তাই না? বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে, বা লোডশেডিংয়ের সময় যখন বিদ্যুৎ থাকে না, তখন এই সময়গুলো কাজে লাগানো যায়।

ব্যস্ততার মাঝে সময় বের করবেন কিভাবে?
আমি জানি, সময় বের করাটা সবচেয়ে কঠিন কাজ। আমারও তো এক মুহূর্ত ফুরসত থাকে না। কিন্তু আমি একটা ছোট্ট কৌশল ব্যবহার করি। দিনের মধ্যে ছোট ছোট 'ফাঁকা সময়' খুঁজে বের করি। যেমন, সকালে চা বানাতে বানাতে ৫ মিনিট, দুপুরে বাচ্চা ঘুমিয়ে গেলে ১৫ মিনিট, বা রাতে স্বামী যখন টিভি দেখছেন, তখন ১০ মিনিট। এই ছোট ছোট সময়গুলো যোগ করলে কিন্তু দিনে ৩০-৪০ মিনিট হয়ে যায়। আর সবদিন যে শিখতেই হবে, এমন কোনো কথা নেই। যেদিন ভালো লাগবে না, বা শরীর খারাপ লাগবে, সেদিন বিশ্রাম নিন। নিজেকে জোর করবেন না। শেখাটা যেন আনন্দ দেয়, বোঝা না হয়।
আমার অভিজ্ঞতা থেকে কিছু কথা
প্রথম প্রথম আমারও খুব দ্বিধা ছিল। ভাবতাম, আমি কি পারবো? কিন্তু যখন শুরু করলাম, দেখলাম এটা আমার মনকে অনেক শান্তি দিচ্ছে। বিশেষ করে যখন কোনো নতুন কিছু শিখে সেটা কাজে লাগাতে পারি, তখন খুব ভালো লাগে। যেমন, আমি ইউটিউব থেকে কিছু সহজ ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের টিপস শিখেছি, যা আমার ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজে কিছুটা সাহায্য করেছে। আবার, কিছু নতুন রেসিপি শিখেছি যা আমার পরিবারের সবাই খুব পছন্দ করেছে। এতে আমার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, নিজেকে সময় দেওয়াটা খুব জরুরি। আমরা মায়েরা, গৃহিণীরা সবসময় সবার কথা ভাবি, কিন্তু নিজের কথা ভাবাটা ভুলে যাই। নিজের জন্য কিছু করা মানে নিজেকে ভালোবাসারই একটা অংশ।
শেষ কথা
জীবনটা তো আর সবসময় মসৃণ হয় না, তাই না? এই যানজট, লোডশেডিং, আর হাজারো কাজের মাঝেও যদি আমরা নিজেদের জন্য একটু সময় বের করতে পারি, সেটাই অনেক বড় ব্যাপার। আজকে হয়তো আপনি একটা নতুন ভিডিও দেখলেন, কালকে হয়তো একটা ছোট কোর্স শুরু করলেন। ছোট ছোট পদক্ষেপেই আমরা অনেক দূর যেতে পারি। আর যদি কোনোদিন মন না চায়, তবে জোর করবেন না। আজকে এইটুকুই যথেষ্ট। নিজের যত্ন নিন, ভালো থাকুন।


