ব্যস্তদের কম খরচে ভেজা জুতো দ্রুত শুকানোর সহজ উপায়
আকাশে মেঘ জমলেই মনটা কেমন যেন ভারী হয়ে ওঠে, বিশেষ করে যখন বাইরে যাওয়ার তাড়া থাকে। ঝুম বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ভেসে যাওয়ার পর এক হাঁটু কাদা-জল পেরিয়ে ভেজা জুতো নিয়ে বাড়ি ফেরা যে কতটা কষ্টের, তা আমরা যারা প্রতিদিনের ব্যস্ততায় থাকি, তারা খুব ভালো করেই জানি। স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ঘরের কোণে জুতো জোড়া পড়ে থাকলে তা থেকে যেমন দুর্গন্ধ বের হয়, তেমনই জুতো নষ্ট হওয়ার ভয়ও থাকে। দামি ড্রায়ার বা বিশেষ যন্ত্র ছাড়াই ঘরে থাকা সাধারণ কিছু জিনিস দিয়ে কীভাবে কম খরচে জুতো শুকিয়ে নেওয়া যায়, চলুন আজ সেই সহজ উপায়গুলো জেনে নিই।

১. খবরের কাগজের জাদুকরী ব্যবহার
ভেজা জুতো দ্রুত শুকানোর সবচেয়ে সস্তা এবং কার্যকর উপায় হলো পুরনো খবরের কাগজ বা নিউজপেপার। জুতো জোড়া ভালো করে ধুয়ে বা মুছে নেওয়ার পর, খবরের কাগজ গোল গোল করে বলের মতো বানিয়ে জুতোর ভেতরে শক্ত করে ঠেসে দিন। কাগজ জুতোর ভেতরের সমস্ত জল শুষে নেবে। জুতোর বাইরের অংশটিও খবরের কাগজ দিয়ে জড়িয়ে রাখতে পারেন। প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পর পর ভেজা কাগজগুলো বদলে নতুন শুকনো কাগজ দিন। দেখবেন, খুব দ্রুত জুতো শুকিয়ে গেছে।
২. ফ্যানের বাতাস ও সঠিক বাতাস চলাচল
অনেকেই মনে করেন ঘরের কোণে জুতো রেখে দিলে তা শুকিয়ে যাবে, কিন্তু বদ্ধ বাতাসে জুতো শুকাতে সময় বেশি লাগে এবং দুর্গন্ধ তৈরি হয়। জুতোর ফিতে খুলে এবং ভেতরের আলগা সোল বা প্যাডটি বের করে ফ্যানের নিচে রেখে দিন। জুতোর মুখটি ফ্যানের বাতাসের দিকে মুখ করে রাখলে বাতাস ভেতরে সহজে ঢুকতে পারে। এতে কোনো বাড়তি খরচ ছাড়াই জুতো প্রাকৃতিক উপায়ে শুকিয়ে যায়।
৩. বেকিং সোডার ব্যবহার
জুতো ভেজার পর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো স্যাঁতসেঁতে গন্ধ। জুতো কিছুটা শুকিয়ে আসার পর জুতোর ভেতরে সামান্য বেকিং সোডা ছিটিয়ে দিন। এটি জুতোর ভেতরের অবশিষ্ট আর্দ্রতা শুষে নেওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ পুরোপুরি দূর করতে সাহায্য করে। পরদিন সকালে জুতো ব্যবহারের আগে ভেতরের সোডা ভালো করে ঝেড়ে ফেলে দিন।
অতিরিক্ত গরম বাতাস এড়িয়ে চলুন
তাড়াহুড়ো করে জুতো শুকাতে গিয়ে অনেকেই হেয়ার ড্রায়ার বা চুলার কাছাকাছি জুতো রেখে দেন। এটি জুতোর আঠা আলগা করে দিতে পারে এবং জুতোর চামড়া বা কাপড় নষ্ট করে ফেলে। তাই অতিরিক্ত তাপ ব্যবহার না করে ধৈর্য ধরে বাতাস এবং শোষক কাগজ ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সংসার আর কাজের ব্যস্ততায় সব সময় সবকিছু নিখুঁতভাবে করা সম্ভব হয় না। তাই নিজের ওপর বেশি চাপ না নিয়ে, ছোট ছোট এই সহজ উপায়গুলো দিয়েই জীবনটাকে একটু সহজ করে তুলুন। আপনি যেভাবে প্রতিদিনের ছোটখাটো বাধাগুলো পেরিয়ে নিজের পরিবার আর কাজের যত্ন নিচ্ছেন, সেটাই অনেক বড় বিষয়। নিজের যত্ন নিতে ভুলবেন না।


