ব্যস্তদের জুতার দুর্গন্ধ দূর করার সহজ উপায়
বাইরে তখন কাঠফাটা রোদ, আর বাতাসে ভ্যাপসা গরমের গন্ধ। জ্যামের শহর পেরিয়ে যখন আমরা ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরি, তখন জুতো খুলতেই একটা অস্বস্তিকর গন্ধ পুরো ঘরের বাতাস ভারী করে তোলে। সারাদিন বাইরে হেঁটে, ঘেমে-নেয়ে বাড়ি ফেরার পর এই সমস্যাটা আমাদের অনেকেরই খুব চেনা। বিশেষ করে বর্ষাকালে বা অতিরিক্ত গরমে জুতোয় দুর্গন্ধ হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক।
দামি কোনো স্প্রে বা কেমিক্যাল ব্যবহার না করেই, আমাদের রান্নাঘরে থাকা সাধারণ কিছু জিনিস দিয়ে কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করা যায়, তা নিয়ে আজ কথা বলব।

জুতোয় দুর্গন্ধ হওয়ার কারণ কী?
আমাদের পায়ে হাজার হাজার ঘামগ্রন্থি থাকে। সারাদিন জুতো পরে থাকার কারণে সেই ঘাম বাইরে বের হতে পারে না। এই আর্দ্র পরিবেশেই ব্যাকটেরিয়া জন্মায়, যা দুর্গন্ধের মূল কারণ। আমাদের মতো আর্দ্র আবহাওয়ার দেশে এটি আরও বেশি দেখা যায়।
ঘরোয়া উপায়ে জুতার দুর্গন্ধ দূর করার সহজ উপায়
এখানে এমন কিছু সহজ উপায়ের কথা বলা হলো যা আপনি ঘরে থাকা জিনিস দিয়েই করতে পারবেন:
১. খাবার সোডা বা বেকিং সোডা
বেকিং সোডা আর্দ্রতা এবং গন্ধ দুটোই শুষে নিতে দারুণ কাজ করে। রাতে ঘুমানোর আগে জুতোর ভেতরে এক চামচ বেকিং সোডা ছিটিয়ে দিন। পরদিন সকালে জুতো জোড়া ঝেড়ে পরিষ্কার করে পায়ে দিন। দেখবেন গন্ধ একদম গায়েব।
২. ব্যবহৃত চা পাতা বা টি-ব্যাগ
চা খাওয়ার পর ব্যবহৃত টি-ব্যাগগুলো ফেলে দেবেন না। সেগুলো ভালো করে শুকিয়ে জুতোর ভেতরে রেখে দিন। চা পাতার প্রাকৃতিক উপাদান জুতোর ভেতরের আর্দ্রতা ও দুর্গন্ধ শুষে নেয় এবং একটি হালকা সুবাস রেখে যায়।
৩. খবরের কাগজ
সারাদিন হাঁটার পর জুতো যদি ঘেমে ভেজা ভেজা থাকে, তবে জুতোর ভেতরে খবরের কাগজ গোল করে মুড়িয়ে ঢুকিয়ে রাখুন। খবরের কাগজ জুতোর ভেতরের সবটুকু পানি ও ঘাম শুষে নেবে, ফলে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারবে না।
৪. রোদে দেওয়া বা বাতাস চলাচল করতে দেওয়া
বাইরে থেকে ফিরেই জুতো বন্ধ আলমারি বা জুতো রাখার তাকে ঢুকিয়ে রাখবেন না। অন্তত কয়েক ঘণ্টা জুতো জোড়া বারান্দায় বা বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখুন। সপ্তাহে অন্তত একদিন হালকা রোদে দিলে জুতোর ভেতরের জীবাণু মারা যায়।
প্রতিদিনের কিছু ছোট অভ্যাস
- প্রতিদিন একই জুতো টানা না পরে, বদলে বদলে পরার চেষ্টা করুন। এতে জুতো শুকানোর পর্যাপ্ত সময় পায়।
- সবসময় সুতির মোজা ব্যবহার করুন এবং প্রতিদিন মোজা ধুয়ে ফেলুন।
- পা সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন।
শেষ কথা
সংসার আর কাজের ব্যস্ততায় নিজের জন্য আলাদা করে সময় পাওয়া কঠিন। জুতোর গন্ধের মতো ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মন খারাপ করার কিছু নেই। নিখুঁত হওয়া জরুরি নয়, বরং এই ছোট ছোট ঘরোয়া যত্নগুলোই আমাদের প্রতিদিনের জীবনকে একটু সহজ আর আরামদায়ক করে তোলে। আজই যেকোনো একটি উপায় চেষ্টা করে দেখুন, নিজের যত্ন নিন।


