ছোট জায়গায় কম খরচে জুতা গুছিয়ে রাখার সহজ উপায়

এই যে, কেমন আছেন সবাই? এই গরমে আর জ্যামে জীবনটা যেন হাঁসফাঁস করছে, তাই না? সারাদিন বাইরে কাজ সেরে বা ঘরের কাজ সামলে যখন একটু শান্তির খোঁজে ঘরে ফিরি, তখন দরজার কাছে জুতার স্তূপ দেখলে মেজাজটা আরও খারাপ হয়ে যায়। বিশেষ করে আমাদের মতো ছোট ফ্ল্যাটে, যেখানে প্রতিটি ইঞ্চি জায়গার দাম অনেক। আমারও একই সমস্যা ছিল, কিন্তু কিছু ছোট ছোট বুদ্ধি খাটিয়ে এখন অনেকটাই গুছিয়ে রাখতে পেরেছি। ভাবলাম, আপনাদের সাথেও আমার এই অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করি।

শুধু দেখতে ভালো লাগে বলে নয়, জুতা গুছিয়ে রাখাটা আসলে অনেক জরুরি। ধরুন, সকালে তাড়াহুড়ো করে বের হচ্ছেন, আর আপনার পছন্দের জুতাটা খুঁজে পাচ্ছেন না, বা একটার সাথে আরেকটা মিশে আছে। তখন কেমন লাগে বলুন তো? আর এই বর্ষার দিনে তো কথাই নেই, কাদা লেগে নোংরা হয়ে যায়। গুছিয়ে রাখলে ঘরটা যেমন পরিষ্কার দেখায়, তেমনি জুতাগুলোও ভালো থাকে। আর সবচেয়ে বড় কথা, মনটাও শান্ত থাকে।

আমরা তো আর সবসময় দামি ফার্নিচার কিনতে পারি না, তাই না? কিন্তু কম খরচেও অনেক কিছু করা যায়। আমার কিছু প্রিয় উপায় আছে, যেগুলো আমি নিজেই ব্যবহার করি: * পুরোনো বাক্স বা ঝুড়ি ব্যবহার: বাড়িতে অনেক সময় পুরোনো শক্ত কাগজের বাক্স বা প্লাস্টিকের ঝুড়ি থাকে। এগুলোকে সুন্দর করে কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে বা রঙ করে জুতা রাখার কাজে ব্যবহার করা যায়। আমি আমার বাচ্চার খেলনার পুরোনো বাক্সগুলো এভাবে ব্যবহার করি। * দরজার পেছনে হ্যাঙ্গার: দরজার পেছনে বা আলমারির ভেতরে হ্যাঙ্গার লাগিয়ে জুতা ঝুলিয়ে রাখা যায়। বিশেষ করে স্যান্ডেল বা হালকা জুতার জন্য এটা খুব ভালো কাজ করে। বাজারে কম দামের জুতার হ্যাঙ্গারও পাওয়া যায়। * উল্লম্ব তাক: যদি একটুও জায়গা থাকে, তাহলে সরু উল্লম্ব তাক খুব কাজে দেয়। এটা আপনি কাঠমিস্ত্রিকে দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন, অথবা প্লাস্টিকের রেডিমেড তাকও পাওয়া যায়। এতে কম জায়গায় অনেক জুতা রাখা যায়। * জুতার কভার: প্রতিটি জুতাকে আলাদা আলাদা কভারে ভরে রাখলে ধুলোবালি থেকে রক্ষা পায় এবং দেখতেও পরিপাটি লাগে। এগুলো খুব সস্তা হয় এবং সহজেই পাওয়া যায়। * সিঁড়ির নিচের জায়গা: যদি আপনার ফ্ল্যাটে সিঁড়ি থাকে, তাহলে তার নিচের অব্যবহৃত জায়গাটা জুতা রাখার জন্য দারুণ কাজে লাগাতে পারেন। ছোট ছোট তাক বানিয়ে নিন।

ছোট জায়গায় কম খরচে জুতা গুছিয়ে রাখার সহজ উপায়

আমার স্বামী আর আমি মিলে একবার পুরোনো পিভিসি পাইপ কেটে ছোট ছোট তাক বানিয়েছিলাম। এটা দেখতে যেমন সুন্দর হয়েছিল, তেমনি খুব মজবুতও ছিল। এছাড়াও, পুরোনো কাঠের টুকরো, এমনকি শক্ত কার্ডবোর্ড দিয়েও ছোট ছোট তাক বানিয়ে নেওয়া যায়। একটু বুদ্ধি খাটালেই দেখবেন, আপনার হাতেই কত সুন্দর সমাধান চলে আসছে। এতে খরচও বাঁচে, আর নিজের হাতে কিছু করার আনন্দও পাওয়া যায়।

আমাদের ঢাকার এই ধুলোবালি আর আর্দ্র আবহাওয়ায় জুতা পরিষ্কার রাখাটা একটা চ্যালেঞ্জ। * নিয়মিত পরিষ্কার: বাইরে থেকে এসে জুতাগুলো শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিন। কাদা লাগলে শুকিয়ে গেলে ঝেড়ে ফেলুন। * বাতাস চলাচল: জুতা রাখার জায়গাটা যেন খোলামেলা হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। বদ্ধ জায়গায় রাখলে দুর্গন্ধ হতে পারে। মাঝে মাঝে জুতাগুলো রোদে দিন। * সিলিকা জেল: জুতার বাক্সে বা তাকের কোণায় ছোট ছোট সিলিকা জেলের প্যাকেট রেখে দিলে আর্দ্রতা শুষে নেয়, ফলে জুতা ভালো থাকে।

ঘর গুছিয়ে রাখাটা আসলে একটা চলমান প্রক্রিয়া, তাই না? একদিনে সবটা নিখুঁত করে ফেলা সম্ভব নয়। ছোট ছোট পদক্ষেপ নিলেই দেখবেন, ধীরে ধীরে আপনার ঘরটা আরও সুন্দর আর আরামদায়ক হয়ে উঠছে। আর হ্যাঁ, নিজেকে খুব বেশি চাপ দেবেন না। আজকের জন্য এটুকুই যথেষ্ট। আপনার ঘরটা আপনার শান্তির জায়গা, তাই সেটাকে নিজের মতো করে গুছিয়ে রাখুন। ভালো থাকবেন!