ব্যস্ত মানুষের জন্য! দৈনন্দিন অপেক্ষার সময়কে কাজে লাগিয়ে সময় বাঁচান

এই যে প্রতিদিনের ব্যস্ততা, গাড়ির হর্ন, আর এই গরম... এর মাঝে নিজের জন্য একটু সময় বের করা যেন এক অসম্ভব কাজ। মা হিসেবে, আবার ফ্রিল্যান্সার হিসেবে, মনে হয় সময় যেন হাতেই নেই। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানো পর্যন্ত, ঘড়ির কাঁটার সাথে পাল্লা দিয়ে চলতে হয়। ছোট ছোট অপেক্ষার মুহূর্তগুলোও যেন এক একটা বোঝা মনে হয় – রিকশায় বসে জ্যামে আটকে থাকা, বাচ্চার স্কুলের ছুটির জন্য অপেক্ষা করা, বা রান্না চড়ানোর পর একটু বিরতি। কিন্তু আমি দেখেছি, এই সময়গুলোকেও একটু বুদ্ধি খাটিয়ে কাজে লাগানো যায়, আর তাতে মনটাও বেশ শান্ত থাকে।

অপেক্ষার সময়কে কাজে লাগানোর গুরুত্ব

অনেকে মনে করেন, অপেক্ষার সময় মানেই নষ্ট সময়। কিন্তু আমার মনে হয়, এই সময়গুলোই আসলে আমাদের জন্য ছোট ছোট উপহার। শুধু কাজ শেষ করা নয়, নিজের মনকেও একটু শান্তি দেওয়া যায় এই সময়গুলোতে। যখন মনে হয় সব কিছু হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন এই ছোট ছোট কাজগুলোই যেন একটা অবলম্বন। এতে শুধু সময়ই বাঁচে না, দিনের শেষে মনে হয়, 'আহ্, আজ কিছু তো করতে পারলাম!' এই অনুভূতিটা খুব জরুরি, বিশেষ করে যখন চারপাশের চাপ অনেক বেশি থাকে।

আমার কিছু ছোট ছোট কৌশল

আমি আমার দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ কৌশল অবলম্বন করি, যা হয়তো আপনারাও চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

ডিজিটাল জগৎে

  • জ্যামে বা রিকশায় বসে: ঢাকা শহরের জ্যাম তো আমাদের জীবনেরই অংশ। রিকশায় বসে বা জ্যামে আটকে থাকার সময় আমি চেষ্টা করি কিছু ছোট ইমেলের উত্তর দিতে, বা পরের দিনের বাজারের তালিকা তৈরি করতে। কখনও কখনও পছন্দের কোনো পডকাস্ট শুনি, যা আমাকে নতুন কিছু শেখায় বা মনকে সতেজ করে। শুধু স্ক্রল না করে, কিছু শেখার চেষ্টা করি।
  • লোডশেডিং হলে: লোডশেডিং হলে তো ফোনই ভরসা। এই সময় আমি আমার ফোনের নোটপ্যাডে পরের দিনের কাজের পরিকল্পনা করি, বা কোনো নতুন রেসিপি খুঁজে বের করি। বাচ্চাদের সাথে খেলার ফাঁকে তাদের স্কুলের নোটিশগুলো দেখে নিই বা কোনো জরুরি বিল পরিশোধ করি।

হাতে কলমে

  • বাচ্চার জন্য অপেক্ষা বা রান্নার ফাঁকে: বাচ্চা স্কুল থেকে ফিরছে, বা রান্না চড়ানো হয়েছে, এই ফাঁকে আমি ছোটখাটো গুছিয়ে রাখি। যেমন, এলোমেলো হয়ে থাকা কাপড়গুলো ভাঁজ করা, বা পরের দিনের জন্য কিছু সবজি কেটে রাখা। এতে পরে কাজটা সহজ হয়ে যায়।
  • নিজের জন্য একটু সময়: কখনও কখনও এই ফাঁকে আমি নিজের জন্য একটু সময় বের করি। যেমন, একটু উবটান মুখে মেখে নেওয়া, যা বাজারের সস্তা জিনিস দিয়েই তৈরি। এতে ত্বকও সতেজ থাকে, আর মনটাও একটু ফুরফুরে হয়। ব্যস্ত মানুষের জন্য! দৈনন্দিন অপেক্ষার সময়কে কাজে লাগিয়ে সময় বাঁচান

মনকে শান্ত রাখার উপায়

তবে সব সময় কিছু না কিছু করতেই হবে, এমনটা নয়। কখনও কখনও অপেক্ষার সময়টা শুধু নিজের জন্য রাখা উচিত। আমি চেষ্টা করি:

  • গভীর শ্বাস নেওয়া: জ্যামে বসে বা কোনো লাইনে দাঁড়িয়ে যখন বিরক্তি আসে, তখন শুধু চোখ বন্ধ করে কয়েকবার গভীর শ্বাস নিই। এতে মনটা অনেকটাই শান্ত হয়।
  • চারপাশের শব্দ খেয়াল করা: কখনও কখনও শুধু চারপাশের শব্দগুলো খেয়াল করি – পাখির ডাক, মানুষের কথা, গাড়ির আওয়াজ। এটা এক ধরনের মেডিটেশনের মতো কাজ করে।
  • প্রিয় গান শোনা: মন খারাপ থাকলে বা খুব ক্লান্ত লাগলে, হেডফোন লাগিয়ে প্রিয় কোনো গান শুনি। এই ছোট বিরতিগুলো আমাকে নতুন করে শক্তি যোগায়। নিজেকে সময় দেওয়াটা বিলাসিতা নয়, এটা প্রয়োজন।

উপসংহার

আমাদের এই ব্যস্ত জীবনে সব দিন সব কাজ হয় না, আর তাতে কোনো ক্ষতি নেই। কখনও কখনও মনে হয়, 'ইশ, আজ এটা করা হলো না!' কিন্তু আমি শিখেছি, নিজেকে দোষ না দিয়ে, আজ যা হয়েছে, সেটুকুই যথেষ্ট বলে মেনে নেওয়া। এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে কাজে লাগিয়ে আমরা শুধু সময়ই বাঁচাই না, বরং নিজের মনকেও একটু স্বস্তি দিই। এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই আমাদের জীবনকে আরও সুন্দর করে তোলে, তাই না?