ব্যস্ত গৃহিণীদের জন্য: পুরনো বালিশের কভার দিয়ে ঘর সাজানোর সহজ উপায়
এই যে, কেমন আছেন সবাই? এই তীব্র গরমে আর যানজটের শহরে দিনগুলো কেমন যেন দ্রুত চলে যায়, তাই না? সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাজারো কাজ, তার মধ্যে নিজের আর পরিবারের যত্ন নেওয়া। মাঝে মাঝে মনে হয়, একটু যদি সময় পেতাম, ঘরটা আরেকটু সুন্দর করে সাজাতাম... কিন্তু বাজেট আর সময়ের অভাবে অনেক কিছুই হয়ে ওঠে না। তবে আমি সম্প্রতি একটা দারুণ উপায় খুঁজে পেয়েছি, যা দিয়ে খুব কম খরচে আর কম সময়েই ঘরের চেহারা বদলে ফেলা যায়। আর সেটা হলো আমাদের পুরনো বালিশের কভার!
কেন পুরনো বালিশের কভার?
আমরা অনেকেই পুরনো বালিশের কভার ফেলে দিই বা কাপড় রাখার বাক্সে জমিয়ে রাখি। কিন্তু একটু বুদ্ধি খাটালেই এগুলো দিয়ে কত সুন্দর জিনিস বানানো যায়, ভাবতেই পারবেন না! এতে একদিকে যেমন আমাদের বাজেট বাঁচে, অন্যদিকে পরিবেশও ভালো থাকে। আর সবচেয়ে বড় কথা, এই কাজগুলো করতে খুব বেশি সময় লাগে না, যা আমার মতো ব্যস্ত মায়ের জন্য খুবই জরুরি।
সহজ কিছু ধারণা
বালিশের কভার থেকে কুশন কভার
পুরনো বালিশের কভারগুলো যদি ভালো প্রিন্টের হয়, তাহলে সেগুলোকে একটু সেলাই করে বা শুধু ভাঁজ করে সোফার কুশন কভার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এতে সোফার লুকটাই পাল্টে যাবে। আমার স্বামী প্রথমে বিশ্বাসই করতে চাননি যে এটা পুরনো বালিশের কভার!
ছোটখাটো জিনিস রাখার ব্যাগ
বাচ্চাদের খেলনা, আমার সেলাইয়ের সরঞ্জাম, বা রান্নাঘরের ছোটখাটো জিনিস – কত কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে, তাই না? পুরনো বালিশের কভারের একপাশ সেলাই করে বা ফিতা লাগিয়ে ছোট ছোট ব্যাগ বানিয়ে নিন। এতে ঘর গোছানো থাকবে আর দেখতেও সুন্দর লাগবে।
বাচ্চাদের খেলার মাদুর
আমার ছোট্ট সোনা যখন খেলা করে, তখন মেঝেতে কিছু একটা বিছিয়ে দিতে হয়। পুরনো বালিশের কভারগুলো একসাথে সেলাই করে একটা ছোট মাদুর বানিয়ে ফেলুন। এটা নরম হবে আর নোংরা হলে সহজেই ধুয়ে ফেলা যাবে।
রান্নাঘরের কাজে
রান্নাঘরে অনেক সময় পুরনো কাপড় লাগে। বালিশের কভারগুলো কেটে ছোট ছোট টুকরা করে কিচেন টাওয়েল বা ডাস্টার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এতে নতুন করে কিছু কিনতে হবে না।
আমার অভিজ্ঞতা থেকে কিছু কথা
এই কাজগুলো করতে গিয়ে আমি একটা জিনিস বুঝেছি, আমাদের চারপাশে কত কিছু আছে যা আমরা কাজে লাগাতে পারি। শুধু একটু ভিন্নভাবে দেখার চেষ্টা করতে হবে। আর হ্যাঁ, সব সময় নিখুঁত হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। আমার প্রথম দিকের কাজগুলো হয়তো ততটা সুন্দর হয়নি, কিন্তু তাতে কী? আমি তো চেষ্টা করেছি, আর এতে আমার মন ভালো লেগেছে। এই যানজট আর গরমের মধ্যে যখন বাইরে বের হতে ইচ্ছে করে না, তখন ঘরে বসে এই ছোট ছোট কাজগুলো মনকে শান্তি দেয়। আর যখন দেখি আমার ছোট্ট ছেলেটা নতুন বানানো মাদুরে বসে খেলছে, তখন সব ক্লান্তি ভুলে যাই।
শেষ কথা
জীবনটা তো আর সব সময় পারফেক্ট হবে না, তাই না? ছোট ছোট খুশিতেই জীবন সুন্দর। আজ এইটুকুই। পরের বার হয়তো অন্য কোনো সহজ সমাধান নিয়ে আসব। সবাই ভালো থাকবেন! 


