ঢাকার ছোট রান্নাঘরে উচ্চ আর্দ্রতায় কাবিহীন রাখুন! কম খরচে স্মার্ট স্টোরেজ
এই যে দেখুন, বাইরে এখন কেমন ভ্যাপসা গরম! বৃষ্টি থেমেছে বটে, কিন্তু বাতাসে আর্দ্রতা যেন আরও বেড়ে গেছে। এই গরমে শুধু শরীরই নয়, আমাদের ছোট রান্নাঘরের জিনিসপত্রও কেমন যেন নেতিয়ে পড়ে, তাই না? বিশেষ করে মশলাপাতি, ডাল, চাল – সব কিছুতেই কেমন একটা স্যাঁতসেঁতে ভাব চলে আসে। আর এই স্যাঁতসেঁতে ভাব থেকেই তো জন্ম নেয় সেই বিরক্তিকর ছাতা! আমারও একসময় খুব চিন্তা হতো, এত কম জায়গায়, এত আর্দ্রতার মধ্যে কীভাবে সব ঠিক রাখব?
প্রথমে আমি যেটা করি, সেটা হলো রান্নাঘরের বাতাস চলাচল ঠিক রাখা। দিনের বেলায় যখন রান্নাঘরে কাজ করি, তখন জানালাটা একটু খুলে রাখি, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে। আর জিনিসপত্র রাখার জন্য আমি কাঁচের বয়াম বা ভালো মানের প্লাস্টিকের এয়ারটাইট কন্টেইনার ব্যবহার করি। এগুলো বাজারে খুব বেশি দামি নয়, একটু খুঁজে দেখলেই ভালো জিনিস পাওয়া যায়। মশলাপাতি, ডাল, চাল – সব আলাদা আলাদা বয়ামে রাখি। এতে একদিকে যেমন ছাতা পড়ার ভয় কমে, তেমনি জিনিসপত্র খুঁজে পেতেও সুবিধা হয়। 
ছোট রান্নাঘরে জায়গার অভাব তো সব সময়ই থাকে। তাই আমি দেয়ালের তাক বা শেল্ফগুলো ব্যবহার করার চেষ্টা করি। পুরনো কাঠের বাক্স বা শক্ত কাগজের বাক্সগুলোকে সুন্দর করে সাজিয়েও তাক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে জিনিসপত্র মেঝেতে বা কাউন্টারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে না। আর হ্যাঁ, কিছু জিনিস যেমন পেঁয়াজ, রসুন – এগুলো ঝুড়িতে করে ঝুলিয়ে রাখলে বাতাস চলাচল ভালো হয়, পচে যাওয়ার ভয়ও কম থাকে। আমার স্বামীও মাঝে মাঝে আমাকে সাহায্য করেন, পুরনো জিনিসপত্র দিয়ে নতুন কিছু বানাতে।
আর্দ্রতা কমানোর জন্য আমি একটা ছোট কাজ করি। কিছু চাল বা নুন একটি ছোট কাপড়ে বেঁধে রান্নাঘরের কোণায় রেখে দিই। এগুলো প্রাকৃতিক ময়েশ্চার অ্যাবজরবার হিসেবে কাজ করে। তবে হ্যাঁ, এগুলো কিন্তু নিয়মিত বদলাতে হবে, নাহলে নিজেই স্যাঁতসেঁতে হয়ে যাবে! আর সবচেয়ে জরুরি হলো, রান্নাঘরটা প্রতিদিন একবার অন্তত মুছে পরিষ্কার রাখা। বিশেষ করে রান্নার পর চুলা আর কাউন্টারটা মুছে রাখলে পিঁপড়া বা অন্য পোকামাকড়ের উপদ্রবও কমে।
আসলে, এই ব্যস্ত জীবনে সব সময় সবকিছু নিখুঁতভাবে করা সম্ভব হয় না। কিন্তু ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলোই আমাদের জীবনকে একটু সহজ করে তোলে। এই আর্দ্রতা, এই ধুলোবালি – এগুলো তো আমাদের জীবনেরই অংশ। তাই এর মধ্যেই কীভাবে ভালো থাকা যায়, সেটাই আসল কথা। আজ নাহয় এইটুকুই, কাল আবার নতুন কোনো উপায় খুঁজে বের করব!


